বাসা ভাড়া: আইন না জানায় ভোগেন ভাড়াটিয়ারা

সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ চিন্তা এবং জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনের জন্য শহুরে জীবনের প্রতি মানুষের ঝোঁক বেশি। এখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। প্রতিদিনই তাই কর্মসংস্থান বা ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় শহরমুখী হচ্ছে মানুষ। আর এসব মানুষের প্রায় ৮৫ শতাংশই ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

শহরগুলোতে বাড়ি ভাড়া বিড়ম্বনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই ভাড়া বাড়ানো, বাড়িওয়ালাদের দাপট বা স্বেচ্ছাচারিতা সব মিলিয়ে অসহায় শহরের ভাড়া বাসার বাসিন্দারা। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত সবাই বাড়ি ভাড়ার এ পাগলা ঘোড়ার কাছে অসহায়। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই।

এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা দরকার সবার। বেশিরভাগ ভাড়াটিয়াই বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত আইন জানেন না। তাই বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত হন তারা। বাড়িওয়ালাদের দ্বারা প্রতারিত হন।

ভাড়াটিয়াদের নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায়, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ এর কিছু দরকারি অংশ জেনে রাখা প্রয়োজন। এর ১০ এবং ২৩ নং ধারা অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রকের লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কোনোভাবেই ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ এক মাসের ভাড়ার অধিক কোনো প্রকার ভাড়া গ্রহণ করতে পারবে না।

প্রতি মাসে পরিশোধকৃত বাড়ি ভাড়ার রশিদটি বুঝে নিতে হবে। বাড়ির মালিক বা নিয়ন্ত্রক তা দিতে বাধ্য। আইনের ১৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ হওয়ার তারিখ থেকে তা দুই বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ সময়ের পূর্বে ভাড়া বৃদ্ধি করা যাবে না।’

আবার ভাড়া দিলেই শুধু হবে না। বাড়ির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও বাড়িওয়ালার নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বসবাসের উপযোগী করে বাড়িটি প্রস্তুত রাখতে বাড়ির মালিকের উপর ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়েছে।

বাড়ি ভাড়া বিষয়ে এই আইন অনেক আগেই প্রণীত হয়েছে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নেই। এই আইনগুলো বাস্তবায়িত করতে পারলে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী মানুষগুলোকে আর অধিক ভাড়ার ভোগান্তি পোহাতে হতো না। এ আইনগুলো বাস্তবায়নে ভাড়াটিয়াদের সচেতন হতে হবে। বুঝে নিতে হবে নিজের অধিকার। পাশাপাশি সরকারের উচিৎ আইনের সঠিক বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়া।

বাড়িওয়ালার যেমন বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পরেও বিভিন্ন দায়বদ্ধতা থাকে, তেমনি ভাড়াটিয়ারও উচিৎ ভাড়া বাড়ির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। যেমন- সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দরজা-জানালা বা দেয়ালের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা, যেকোনো মেরামত বা ইন্সটলেশনের কাজে হাত দেওয়ার আগে মালিকের অনুমতি নেওয়া, ছোটখাটো মেরামতের কাজ মালিকের উপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেও করে নেওয়ার মানসিকতা থাকা ইত্যাদি।

লেখক: শিক্ষার্থী, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *